রেকর্ড সর্বোচ্চ থেকে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমে এসেছে। তাই ভারতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে আগের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যদিও তা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে চীনে লেনদেন মন্থর থাকায় ব্যবসায়ীরা এখনো ছাড়ে স্বর্ণ বেচাকেনা করছেন। খবর রয়টার্স।
ভারতের আহমেদাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাম কমার কারণে চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। যদিও অনেক ক্রেতা স্বর্ণের দাম আরো কমার অপেক্ষায় আছেন।’
ব্যবহারে দ্বিতীয় শীর্ষ এ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণ প্রায় ৮৪ হাজার ৭৫০ রুপিতে বেচাকেনা হয়েছে। গত সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুটির দাম রেকর্ড ৮৬ হাজার ৫৯২ রুপিতে পৌঁছেছিল।
এদিকে ভারতীয় ডিলাররা চলতি সপ্তাহে সরকার নির্ধারিত মূল্যের ওপর প্রতি আউন্স স্বর্ণে ১২-২৭ ডলার ছাড় দিয়েছেন। এতে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত সপ্তাহে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল আউন্সপ্রতি ৩৫ ডলার পর্যন্ত।
মুম্বাইয়ের এক বুলিয়ন আমদানিকারক ব্যাংকের ডিলার বলেন, ‘দেশে স্বর্ণের সরবরাহ কমছে। কারণ চলতি মাসে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রায় কোনো আমদানি হয়নি। ফলে ছাড়ের পরিমাণও কমছে।’ খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি ফেব্রুয়ারিতে ভারতের স্বর্ণ আমদানি গত বছরের তুলনায় ৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছতে পারে।
স্বর্ণের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে চলতি সপ্তাহে স্পট মূল্যের তুলনায় আউন্সপ্রতি ৩ ডলার ছাড়ে স্বর্ণ বেচাকেনা হয়েছে।
এদিকে জানুয়ারিতে হংকংয়ের মাধ্যমে চীনের মোট স্বর্ণ আমদানি এর আগের মাসের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে সর্বনিম্ন। তথ্য অনুসারে, এ সময় স্বর্ণের আমদানির প্রবাহ বিপরীতমুখী হয়েছে। অর্থাৎ চীন থেকে হংকংয়ে বেশি স্বর্ণ সরবরাহ হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, দেশটিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণে ৫০ সেন্ট ছাড় দেয়া হচ্ছে। দেশটিতে মূল্য সংযোজন করা হচ্ছে ৩ ডলার পর্যন্ত।
এদিকে হংকংয়ে ডিলাররা প্রতি আউন্স স্বর্ণের জন্য ১ ডলার ৮০ সেন্ট ছাড় থেকে ২ ডলার ৩০ সেন্ট পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণ বেচাকেনা করছেন। জাপানে ছাড় ও মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ছিল ৬ ডলার ও ১ ডলার ৫০ সেন্ট।
টোকিও-ভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ক্রয়ের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ বেশি। কারণ এখনো দাম কমার অপেক্ষা করছেন অনেকে।’